আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত এসেছে। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কমিশন।
আজ ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন। নিচে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত সংবাদ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:
📱 ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার: ছবি তোলা ও সাংবাদিক প্রবেশে ইসির নতুন বার্তা
ঢাকা | সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি শিথিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
🔄 নির্দেশনায় যা যা পরিবর্তন এলো
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়েই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে:
- ছবি তোলার অনুমতি: ভোটার ও প্রার্থীরা কেন্দ্রে মোবাইল নিতে পারবেন এবং ছবিও তুলতে পারবেন।
- গোপন কক্ষের গোপনীয়তা: কেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা গেলেও গোপন কক্ষ বা ব্যালটে সিল দেওয়ার জায়গার কোনো ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না। এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
- পোলিং এজেন্ট ও বাহিনীর জন্য বিধি: মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটারদের ছাড় দেওয়া হলেও পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আগের বিধিনিষেধগুলো বহাল থাকবে।
🎥 সাংবাদিকদের জন্য সুখবর ও বিদেশি পর্যবেক্ষক
সচিব আরও জানান, সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সাংবাদিকরা অনায়াসেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে ৫৪০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।”
📋 আগের নির্দেশনা ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে “ভোট চুরির কৌশল” বা “হঠকারী সিদ্ধান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। জনমতের প্রতিফলন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কমিশন ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🗓️ নির্বাচনের দিনক্ষণ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে এই সাধারণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিবর্তিত এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটাররা এখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করছে কমিশন।

Reporter Name 


