
শিরোনাম: মাদারীপুরের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে চরম অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের অভিযানে অনুপস্থিতি
মাদারীপুর: মাদারীপুরের সিভিল সার্জন (সিএস) ডাঃ শরীফুল কাদের কমলের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার, শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং পেশাগত ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে তিনি অনুপস্থিত থেকে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন ডাঃ শরীফুল কাদের কমল তার দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন। সামান্য ভুলত্রুটি হলেও তিনি তাদের প্রকাশ্যে বকাঝকা করেন। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসাররা তার সামনে থাকা সংরক্ষিত চেয়ারে বসার সাহস পান না, সবসময় আতঙ্কে থাকেন।
ফোন না ধরার ঔদ্ধত্য:
সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম ঔদ্ধত্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তিনি কারও ফোন রিসিভ করেন না এবং প্রকাশ্যে সদর্পে বলেন, “আমি ডিসি-এসপি’র কাছেও ফোন করি না বা কারও ফোন রিসিভ করি না।” তার এই দাম্ভিক আচরণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং পেশাদার সংবাদকর্মীরাও বিক্ষুব্ধ।
সাংবাদিকদের অবমূল্যায়ন:
দায়িত্বশীল পদে থাকা সিনিয়র সাংবাদিকদেরও তিনি অবমূল্যায়ন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে ফোন করা হলেও তিনি তা কেটে দেন। সময় টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ একটি জরুরি বিষয়ে তার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সিভিল সার্জন ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য আচরণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক মহলও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
দুদকের অভিযান এড়ানোর অভিযোগ:
সম্প্রতি মাদারীপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিদর্শক আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু অভিযানের সময় ডাঃ শরীফুল কাদের কমল দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ‘জরুরী মিটিং’-এর অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি এবং অনিয়মের বেশ কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, “আমরা সমস্ত অনুসন্ধানের রিপোর্ট প্রস্তুত করে ঢাকা হেড অফিসে পাঠিয়েছি। আশা করছি, প্রধান কার্যালয় অতিসত্বর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
সিভিল সার্জনের এমন আচরণ এবং তার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় মাদারীপুরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিক্ষুব্ধ মহল দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Reporter Name 