
ডেস্ক রিপোর্ট: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে শুরু হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সরাসরি যুদ্ধ শুক্রবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ নামে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অভিযান শুরু করলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কামানের গর্জন আর ড্রোনের আনাগোনা বেড়ে যায়।
এই যুদ্ধে দুই পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী:
আফগান তালেবান নিহন: ২৭৪ জন যোদ্ধা।
আহত: অন্তত ৩১৪ জন।
সামরিক স্থাপনা: তালেবানের ৭৪টি চৌকি ধ্বংস এবং ১৮টি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে পাক বাহিনী।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, লড়াইয়ে মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহতের খবর জানিয়েছে আফগান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আফগানিস্তান শান্তি চায়, কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে আমাদের কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে। আমাদের হাত তাদের গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
লড়াই কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই; পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে পাঠানো ড্রোন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা শহরে হামলা চালিয়েছে। যদিও ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
এই সংঘাত এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্বশক্তিগুলো এগিয়ে এসেছে:
চীন ও রাশিয়া: উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। চীন মধ্যস্থতা করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
ভারত: আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানায়।
জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান ও তুরস্ক: দুই দেশই সংলাপ সহজ করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
তোরখাম সীমান্তসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখন ভারী অস্ত্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো থেকে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসন চূর্ণ করার সক্ষমতা ইসলামাবাদের রয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান যোদ্ধারাও সীমান্তে তাদের অবস্থান শক্ত করছে।
সারসংক্ষেপ: দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। একদিকে পাকিস্তানের বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণ, অন্যদিকে তালেবানের পাল্টা প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনিশ্চিত ও বারুদমাখা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।