

পরিবারের সবাই শেষ, তবু ফেরার অপেক্ষায় ছোট্ট ফাইজা
রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর: “আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা আর বোনদেরও ঈদের আগে আসতে হবে। আমি আর কখনো বিদেশে যাবো না।”—মৃত বাবা-মা আর বোনদের ফেরার অপেক্ষায় এভাবেই কথাগুলো বলছিল ১১ বছরের শিশু ফাইজা আক্তার। সে জানে না, যে মানুষগুলোর জন্য সে পথ চেয়ে বসে আছে, তারা আর কোনোদিন ফিরবে না।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ফাইজার বাবা মিজানুর রহমান, মা মেহের আফরোজ সুমী, বড় বোন মোহনা (১৩) এবং মাত্র দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহ। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ফাইজা।
📍 ঘটনার প্রেক্ষাপট
-
ওমরাহ পালন: গত ৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সপরিবারে ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যান।
-
দুর্ঘটনা: ওমরাহ শেষ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জেদ্দা থেকে ফেরার পথে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
-
আহত ফাইজা: দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ফাইজাকে প্রায় এক সপ্তাহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার মামা আজহারুল ইসলাম সুমনের সাথে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
🏠 দাদার বাড়িতে শোকের মাতম
বর্তমানে ফাইজা রামগঞ্জের পাঁচরুখি গ্রামে তার দাদার বাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। শিশুটি এখনো জানে না তার পুরো পৃথিবীটা তছনছ হয়ে গেছে। সে মনে করছে তার পরিবার আহত হয়ে হাসপাতালে আছে এবং ঈদের আগেই সবাই একসাথে বাড়ি ফিরবে। স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
⚠️ লাশ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
নিহত চার সদস্যের মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। কিন্তু সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
-
বিপুল খরচ: নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, চারটি মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। এতো বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা সাধারণ একটি পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।
-
সহযোগিতার অভাব: পরিবারটির অভিযোগ, অনেকে সমবেদনা জানালেও মরদেহ আনার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না।
-
ব্যবসায়িক জটিলতা: ফাইজার মামা মামুন হোসেন জানান, মিজানুরের ব্যবসায়িক অংশীদাররা দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন এবং অসংলগ্ন কথা বলছেন।
আর্তুতি: “প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে হয়তো শেষ পর্যন্ত ওখানেই (সৌদি আরব) তাদের দাফন করতে হবে। আমরা বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যেন দ্রুত মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

Reporter Name 