ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারী নূরাসহ গ্রেফতার আরও ২ বাজার বিশ্লেষন: রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্বস্তির আভাস, নিম্নমুখী আলু-পেঁয়াজ ও পোল্ট্রির দাম দক্ষিণ এশিয়ায় রণডঙ্কা: আফগান-পাক সীমান্তে ভয়াবহ যুদ্ধ, বাড়ছে প্রাণহানি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি: দেশের বাজারে ভেজাল খাদ্যের ভয়াবহ বিস্তার মাদারীপুরে পাওনাদারের চাপে আত্মহত্যার নাটক? সোহেল বেপারীর মরদেহ উদ্ধার ও পরিবারের বিক্ষোভ স্বভাব পরিবর্তন না হলে স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ ব্যালটে জবাব দেবে: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মাদারীপুরে চোরাই স্বর্ণসহ যুবক আটক: অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মাদারীপুরের রাজৈরে ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগ অফিসের গেটে জাতীয় পতাকা: এলাকায় চাঞ্চল্য মাদারীপুরে অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের হানা: ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা ও স’মিল উচ্ছেদ মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রণক্ষেত্র পেয়ারপুর: আহত ৪, দোকান ও বসতঘরে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ
নোটিশ :
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, এছাড়াও যেকোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে যোগাযোগ করুন হোয়াটসঅ্যাপ ০১৭১৭০২৮৩০৩

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

 

শ্রীমঙ্গলে লেবুর বাজারে আগুন: এক হালি লেবু ২২০ টাকা, সাধারণের নাগালের বাইরে ইফতারের প্রিয় অনুসঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল কেবল চা-বাগানের জন্যই নয়, বরং লেবু ও আনারসের প্রাচুর্যের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। তবে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও বনাঞ্চল ঘেরা এই অঞ্চলের উৎপাদিত লেবুর বাজারে যেন আগুন লেগেছে। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ লেবুর শরবত এখন শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র

শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গলের প্রধান বাজার ও লেবুর আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চিত্র। আকারভেদে লেবুর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে:

  • বড় আকৃতির লেবু (জারা বা বড় কাগজি): প্রতি হালি ২২০ টাকা।

  • মাঝারি আকৃতির লেবু: প্রতি হালি ১২০-১৫০ টাকা।

  • ছোট আকৃতির লেবু: প্রতি হালি ৬০-৮০ টাকা।

অর্থাৎ, একটি বড় লেবুর দাম পড়ছে ৫৫ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতিটি লেবুর দাম প্রায় ৪০ টাকা। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল চার ভাগের এক ভাগ।

কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?

ব্যবসায়ীদের মতে, আকাশছোঁয়া এই দামের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে: ১. প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব: দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লেবুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আড়তে চাহিদার তুলনায় জোগান খুবই নগণ্য। ২. রমজানের উচ্চ চাহিদা: ইফতারে লেবুর শরবতের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর সিন্ডিকেট বাজার অস্থির করে তুলেছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই লেবু মিলছে না। আড়ত থেকে চড়া দামে কিনে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের হাহাকার ও ক্ষোভ

বাজারে লেবু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের পর ডাক্তার লেবু খাওয়াতে বলেছেন। কিন্তু গত সপ্তাহে যে লেবু ১৫ টাকা হালি কিনেছিলাম, আজ তা ৬০ টাকা! অবিশ্বাস্য এই দামের কারণে লেবু না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।”

একই চিত্র দেখা গেল শারমিন আক্তারের ক্ষেত্রেও। ইফতারে মায়ের প্রিয় লেবুর শরবতের জন্য অনেক দরদাম করে ১৯০ টাকা দিয়ে দুই হালি বড় লেবু কিনেছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, “লেবুর হালি ২০০ টাকা হলে মধ্যবিত্তের পক্ষে তা কিনে খাওয়া আর সম্ভব হবে না।”

অর্থনীতি ও রপ্তানি সম্ভাবনা

শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারেও এর বিশাল চাহিদা রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রপ্তানি এবং স্থানীয় ভোক্তা—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং আড়তগুলোতে তদারকি বাড়ালে রমজানে লেবুর দাম কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারী নূরাসহ গ্রেফতার আরও ২

আপডেট সময় ০৩:১৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

শ্রীমঙ্গলে লেবুর বাজারে আগুন: এক হালি লেবু ২২০ টাকা, সাধারণের নাগালের বাইরে ইফতারের প্রিয় অনুসঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল কেবল চা-বাগানের জন্যই নয়, বরং লেবু ও আনারসের প্রাচুর্যের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। তবে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও বনাঞ্চল ঘেরা এই অঞ্চলের উৎপাদিত লেবুর বাজারে যেন আগুন লেগেছে। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ লেবুর শরবত এখন শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র

শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গলের প্রধান বাজার ও লেবুর আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চিত্র। আকারভেদে লেবুর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে:

  • বড় আকৃতির লেবু (জারা বা বড় কাগজি): প্রতি হালি ২২০ টাকা।

  • মাঝারি আকৃতির লেবু: প্রতি হালি ১২০-১৫০ টাকা।

  • ছোট আকৃতির লেবু: প্রতি হালি ৬০-৮০ টাকা।

অর্থাৎ, একটি বড় লেবুর দাম পড়ছে ৫৫ টাকা এবং মাঝারি সাইজের প্রতিটি লেবুর দাম প্রায় ৪০ টাকা। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল চার ভাগের এক ভাগ।

কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?

ব্যবসায়ীদের মতে, আকাশছোঁয়া এই দামের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে: ১. প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব: দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লেবুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আড়তে চাহিদার তুলনায় জোগান খুবই নগণ্য। ২. রমজানের উচ্চ চাহিদা: ইফতারে লেবুর শরবতের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর সিন্ডিকেট বাজার অস্থির করে তুলেছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই লেবু মিলছে না। আড়ত থেকে চড়া দামে কিনে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের হাহাকার ও ক্ষোভ

বাজারে লেবু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের পর ডাক্তার লেবু খাওয়াতে বলেছেন। কিন্তু গত সপ্তাহে যে লেবু ১৫ টাকা হালি কিনেছিলাম, আজ তা ৬০ টাকা! অবিশ্বাস্য এই দামের কারণে লেবু না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।”

একই চিত্র দেখা গেল শারমিন আক্তারের ক্ষেত্রেও। ইফতারে মায়ের প্রিয় লেবুর শরবতের জন্য অনেক দরদাম করে ১৯০ টাকা দিয়ে দুই হালি বড় লেবু কিনেছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, “লেবুর হালি ২০০ টাকা হলে মধ্যবিত্তের পক্ষে তা কিনে খাওয়া আর সম্ভব হবে না।”

অর্থনীতি ও রপ্তানি সম্ভাবনা

শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারেও এর বিশাল চাহিদা রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রপ্তানি এবং স্থানীয় ভোক্তা—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং আড়তগুলোতে তদারকি বাড়ালে রমজানে লেবুর দাম কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।