

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে: সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সেবা চালু করল বাংলাদেশ
নয়াদিল্লি ও ঢাকা ডেস্ক | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভিসা সেবা চালুর প্রেক্ষাপট
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল ঢাকা। ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কূটনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল। যদিও সে সময় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ভিসা সচল ছিল, তবে পর্যটনসহ অন্যান্য সাধারণ ভিসা বন্ধ থাকায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছিল। নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিল।
ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া
ঢাকার এই সদিচ্ছার পর ভারতও তাদের ভিসা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আভাস দিয়েছে। সিলেটে নিযুক্ত ভারতের জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যকার কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনরায় শক্তিশালী করবে।
কূটনৈতিক মেলবন্ধনের নতুন অধ্যায়
চলতি সপ্তাহে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এই সফর ও বার্তার আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে, দুই দেশই পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভিসা জটিলতা নিরসন হলে দুই দেশের মধ্যে থমকে থাকা বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং পর্যটন খাতে নতুন গতি ফিরবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত ও নিবিড় অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে এই ধরনের সহজীকরণ প্রক্রিয়া উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঢাকা ও দিল্লির এই ‘আস্থা পুনর্গঠন’ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Reporter Name 