
মাদারীপুরে শাশুড়িকে নিয়ে জামাই উধাও: ফিরে আসতেই এলাকায় তোলপাড়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নে শাশুড়িকে নিয়ে জামাইয়ের পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার তারা এলাকায় ফিরে আসলে স্থানীয় জনতা ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পশ্চিম পাঁচখোলা এলাকার আউয়াল মাতুব্বরের ছেলে পিকআপ চালক রাহুল মাতুব্বরের সঙ্গে একই এলাকার প্রবাসী মনির মাতুব্বরের মেয়ে তামান্নার বিয়ে হয়। তাদের কোলজুড়ে এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। উভয় পরিবারের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় এবং নিকটাত্মীয় হওয়ার সুবাদে রাহুলের বাড়িতে তার শাশুড়ি হোসনেয়ারা বেগমের যাতায়াত ছিল নিয়মিত।
অভিযোগ উঠেছে, এই যাতায়াতের মাধ্যমেই জামাই রাহুলের সঙ্গে শাশুড়ি হোসনেয়ারার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের জেরে গত দুই সপ্তাহ আগে তারা দুজনে ঘর ছাড়েন।
এলাকায় ফিরে আসায় উত্তেজনা
গত দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর আজ (২২ জানুয়ারি) তারা পুনরায় রাহুলের বাড়িতে ফিরে আসেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ বাড়িটিতে ভিড় জমায়। নিজের স্বামী ও মাকে একত্রে ফিরে আসতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাহুলের স্ত্রী তামান্না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নিন্দার ঝড় ওঠে।
বিদেশে অর্জিত অর্থ নিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী
ঘটনার খবর পেয়ে তামান্নার বাবা ও হোসনেয়ারার স্বামী প্রবাসী মনির মাতুব্বর তিন দিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তবে তিনি এক নিদারুণ সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। বর্তমানে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ স্ত্রীর হাতে থাকায় এবং পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলেও আর্থিক লেনদেনের জটিলতা তাকে ভাবিয়ে তুলছে।
সামাজিক সিদ্ধান্ত ও বর্তমান অবস্থা
পাঁচখোলা ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি কেবল জঘন্যই নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মা ও মেয়েকে একই ঘরে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে।
এলাকার মুরুব্বিরা জানান, “এটি একটি সামাজিক অবক্ষয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসেছি এবং স্থানীয়ভাবে একটি চূড়ান্ত সমাধানের চেষ্টা করছি যাতে ভুক্তভোগী পরিবারটি অন্তত তাদের সম্মান ফিরে পায়।”

Reporter Name 


