

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যান-ভ্যান সংঘর্ষ: দুই নারীসহ তিন প্রাণহানি, দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরে বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্যাটারিচালিত ভ্যানের তিন যাত্রী। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাঁতাবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতাবাড়ি এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত যাত্রীবাহী ভ্যান মহাসড়ক অতিক্রম করছিল। এসময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান ভ্যানটিকে সজোরে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় যাত্রীবাহী ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন: ১. কোহিনুর বেগম (৩৫): সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ী এলাকার আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী। ২. তাসলিমা (৪৬): একই এলাকার জাকির তালুকদারের স্ত্রী। ৩. নয়ন হাওলাদার (২২): ডাসার উপজেলার পান্তাপাড়া এলাকার রুহুল হাওলাদারের ছেলে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে রনি খান (৩৩)। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
জনরোষ ও মহাসড়ক অবরোধ
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চালকের বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে উত্তেজিত জনতা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাঠ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Reporter Name 
