ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈরে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযান: ছাত্রলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন খালাসী গ্রেফতার কাতারে বন্দী করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: মাদারীপুরের এক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ মাদারীপুরে গৃহবধূ ফাতেমার ওপর হামলা: ৪ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ, ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা মাদারীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪; আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২ জন ঢাকায় রেফার বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সাংবাদিক অধিকার আদায়ের আপসহীন কণ্ঠস্বর এবং আমাদের সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব মেহেদি হাসান সোহেল ভাইকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। শিরোনাম: মাদারীপুরে লিবিয়া কেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা বাদল লস্কর গ্রেফতার 💔 পারিবারিক কলহে ঘুমন্ত বাবাকে কোদালের কোপে হত্যা 🚨 ভবনের জানালার রড ভেঙে ব্যাংক ম্যানেজার ও এনজিও অফিসে দুঃসাহসিক চুরি: নগদ টাকা লুট
নোটিশ :
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, এছাড়াও যেকোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে যোগাযোগ করুন হোয়াটসঅ্যাপ ০১৭১৭০২৮৩০৩

কাতারে বন্দী করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: মাদারীপুরের এক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
36

কাতারে বন্দী করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: মাদারীপুরের এক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কাতারে কোম্পানি ভিসায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবক নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন এবং মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা সবাই মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে টাকা দেওয়ার পরও স্বজনদের মুক্তি মিলছে না।

ঘটনার বিবরণ: স্বপ্নের আড়ালে বিভীষিকা

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকজন ব্যক্তি ভালো বেতনে কাতারভিত্তিক নামী কোম্পানিতে কাজের কথা বলে স্থানীয় বেশ কিছু যুবককে বিদেশে নিয়ে যান। কিন্তু কাতারে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেখানে তাদের কোনো কর্মসংস্থানে না পাঠিয়ে একটি গোপন স্থানে আটকে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় যুবকদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই আর্তনাদ মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের শুনিয়ে দাবি করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্তদের পরিচয়

এই নৃশংস ঘটনার পেছনে মাদারীপুর সদর উপজেলার বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা হলেন:

  • হাজিরহাওলা গ্রাম (ঘটমাঝি ইউনিয়ন): তালেম কাজীর ছেলে রুমান কাজী, আব্বাস কাজী, রানা কাজী ও মোসারফ কাজী। এছাড়া রুমান কাজীর স্ত্রী স্বপ্না ইসলামও এই চক্রে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নাওটানা গ্রাম (পাঁচখোলা ইউনিয়ন): আলী চিবাইয়ের মেয়ে আনোয়ারা বেগম আয়না এবং তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন।

নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার, কাটছে মানবেতর জীবন

ভুক্তভোগী স্বজনরা জানান, প্রিয়জনকে বাঁচাতে তারা ইতোমধ্যে ভিটেমাটি, গবাদিপশু এবং শেষ সম্বল বিক্রি করে কয়েক দফায় টাকা পাঠিয়েছেন। তবুও থামছে না নির্যাতনের মাত্রা। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন পথে বসেছে। দিশেহারা এসব পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং সারাক্ষণ বিদেশের মাটিতে থাকা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আতঙ্কে রয়েছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে তাদের সন্তানদের উদ্ধার করতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“আমরা আমাদের সন্তানদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। যারা আমাদের সাথে এমন প্রতারণা ও নির্যাতন করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।” — একজন অশ্রুসিক্ত ভুক্তভোগী মা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈরে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযান: ছাত্রলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন খালাসী গ্রেফতার

কাতারে বন্দী করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: মাদারীপুরের এক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
36

কাতারে বন্দী করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি: মাদারীপুরের এক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কাতারে কোম্পানি ভিসায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবক নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন এবং মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা সবাই মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে টাকা দেওয়ার পরও স্বজনদের মুক্তি মিলছে না।

ঘটনার বিবরণ: স্বপ্নের আড়ালে বিভীষিকা

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকজন ব্যক্তি ভালো বেতনে কাতারভিত্তিক নামী কোম্পানিতে কাজের কথা বলে স্থানীয় বেশ কিছু যুবককে বিদেশে নিয়ে যান। কিন্তু কাতারে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেখানে তাদের কোনো কর্মসংস্থানে না পাঠিয়ে একটি গোপন স্থানে আটকে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় যুবকদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই আর্তনাদ মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের শুনিয়ে দাবি করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্তদের পরিচয়

এই নৃশংস ঘটনার পেছনে মাদারীপুর সদর উপজেলার বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা হলেন:

  • হাজিরহাওলা গ্রাম (ঘটমাঝি ইউনিয়ন): তালেম কাজীর ছেলে রুমান কাজী, আব্বাস কাজী, রানা কাজী ও মোসারফ কাজী। এছাড়া রুমান কাজীর স্ত্রী স্বপ্না ইসলামও এই চক্রে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নাওটানা গ্রাম (পাঁচখোলা ইউনিয়ন): আলী চিবাইয়ের মেয়ে আনোয়ারা বেগম আয়না এবং তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন।

নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার, কাটছে মানবেতর জীবন

ভুক্তভোগী স্বজনরা জানান, প্রিয়জনকে বাঁচাতে তারা ইতোমধ্যে ভিটেমাটি, গবাদিপশু এবং শেষ সম্বল বিক্রি করে কয়েক দফায় টাকা পাঠিয়েছেন। তবুও থামছে না নির্যাতনের মাত্রা। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন পথে বসেছে। দিশেহারা এসব পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং সারাক্ষণ বিদেশের মাটিতে থাকা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আতঙ্কে রয়েছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে তাদের সন্তানদের উদ্ধার করতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“আমরা আমাদের সন্তানদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। যারা আমাদের সাথে এমন প্রতারণা ও নির্যাতন করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।” — একজন অশ্রুসিক্ত ভুক্তভোগী মা।