
মাদারীপুর প্রতিনিধি | ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ মাদারীপুরে যৌতুক মামলার জেরে ফাতেমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন আহত ফাতেমা ও তার স্বজনরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সদর উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমার সাথে সাবেক কালিকাপুর গ্রামের রাহাত গাছীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হলেও বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফাতেমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ফাতেমার স্বামী রাহাতকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন তার বড় ভাই রাসেল গাছী। এরপর পুনরায় যৌতুকের দাবিতে চাপ দিলে ফাতেমা নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আদালতে রাহাত ও রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন।
অতর্কিত হামলা: আদালতে মামলা করার খবর জানতে পেরে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে। ফাতেমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: এই হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফাতেমার পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় রাসেলসহ অভিযুক্তদের নামে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, “যৌতুক মামলা করায় তারা আমাকে কুপিয়ে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, অথচ পুলিশ এখনো মামলা নিচ্ছে না।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: মামলা বিলম্বের বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। অন্যদিকে, পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহসিন-কে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে দেখে এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “অভিযোগটি দেরিতে পাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্তের নামে এই বিলম্ব অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

মাদারীপুর প্রতিনিধি 

