
সুরমান, লিবিয়া: লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সুরমানের অদূরে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের মরিয়া চেষ্টার পথে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডি।
দুর্ঘটনার পরপরই লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্থানীয় দলগুলো উদ্ধার অভিযানে নামে। লিবিয়ার রেড ক্রিসেন্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারা এ পর্যন্ত ৯০ জনেরও বেশি যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌকাটি অবৈধভাবে ইউরোপের দিকে যাচ্ছিল এবং তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইতালির উপকূল। ধারণা করা হচ্ছে, সুরমান উপকূল থেকে রাতের অন্ধকারে বা ভোরের দিকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল।
এই ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
পাচারকারী চক্রগুলো সাধারণত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে, কিন্তু তাদের জীবন রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (যেমন লাইফ জ্যাকেট) সরবরাহ করে না।
ঘটনার পর থেকে উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তবে প্রতিকূল স্রোত উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তুলেছে।
এই ঘটনাটি আবারও আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগরকে বেছে নেওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জীবনের ঝুঁকি এবং অবৈধ মানব পাচার চক্রের নির্মমতা তুলে ধরল। এই রুটে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর মারা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লিবিয়ার প্রতি মানব পাচার রোধ ও অভিবাসীদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। সুরমানের এই ট্র্যাজেডি সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলল।